চৌগাছা উপজেলার সলুয়া বাজারের
ক্রীড়ানুরাগী জামির উদ্দিন আহমেদ আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গত ১৫ ই এপ্রিল-২০১৭,বাংলা ২রা বৈশাখ-১৪২৪,১৮ই রজব-১৪৩৮ হিজরী রোজ শনিবার রাত -১১.১০ মিনিটে শেষ
নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়ষ ৫৬ বছর। গত কয়েক মাস লিভারের সিরোসিস ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে- তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, দুই মেয়েসহ আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন।মরহুমের মৃত্যুতে চৌগাছা উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক,ক্রীড়া সংগঠনের নেতাকর্মীরা শোকার্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।
কর্মজীবনে জামির উদ্দিন আহমেদ- সরকারী কর্মকর্তা হিসেবে বাংলাদেশ রেলওয়ে যশোহর জংশনে ‘হেড বুকিং এ্যাসিট্যান্ট ’ দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। কর্মজীবনে তিনি দেশের বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন পরিবেশে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। দুই ভাই তিন বোনের মধ্যে জামির হোসেন ছিলেন সবার বড়। সংসারে বাবার মৃত্যুর পর দায়িত্ব নিতে গিয়ে উচ্চ শিক্ষা অর্জন করা সম্ভব হয়নি মেধাবী জামির হোসেনের।
কর্মজীবনে জামির উদ্দিন আহমেদ- সরকারী কর্মকর্তা হিসেবে বাংলাদেশ রেলওয়ে যশোহর জংশনে ‘হেড বুকিং এ্যাসিট্যান্ট ’ দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। কর্মজীবনে তিনি দেশের বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন পরিবেশে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। দুই ভাই তিন বোনের মধ্যে জামির হোসেন ছিলেন সবার বড়। সংসারে বাবার মৃত্যুর পর দায়িত্ব নিতে গিয়ে উচ্চ শিক্ষা অর্জন করা সম্ভব হয়নি মেধাবী জামির হোসেনের।
জামির উদ্দিন আহমেদ কে নিয়ে স্মৃতি চারণে কিছু কথাঃ তিনি এ প্রজন্মের তরুণদের আলোর দিশারী। তিনি চৌগাছা উপজেলার সলুয়া বাজারের সলুয়া হাইস্কুলের সাবেক কৃতি ছাত্র, মেধামননে অনন্য ও খেলাধুলা এবং ক্রীড়া সংগঠক ব্যক্তি হিসেবে জামির উদ্দিন আহমেদ ছিলেন একজন নিবেদিত প্রাণ। ৯০‘দশকের ফুটবল মাঠে যার পদচারণে মুখরিত ছিল সলুয়া বাজারে ঐতিহ্যবাহী ফুটবল ক্লাব সলুয়া বাজার শাপলা ক্রীড়াচক্র। তিনি ফুটবলের পাশাপাশি ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টনে অসম্ভব দক্ষ ছিলেন। অফুরন্ত মেধাবী, পরিশ্রমী, দায়িত্ববান একজন মানুষ। সন্তানদের সঠিক পথ দেখানো এবং সময়মত যুগোপযোগী সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার জন্য সর্বদা সচেতন একজন মানুষ ছিলেন। গত বছর ইয়ং ষ্টারদের আয়োজনে রমজানের ঈদে ঈদপরবর্তী পুনর্মিলন সলুয়া হাইস্কুল মাঠে ৯০‘দশকের ফুটবলের মাঠ মাতানো সাথিদের নিয়ে প্রীতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং যাকে নিয়ে এত উচ্ছ্বাস এতটা আনন্দ ক্রীড়াপ্রেমী মানুষের মধ্যে ছিল যাহা অনুমেয়। সত্যিই প্রাণবন্ত ছিল সেদিনটি জামির উদ্দিনকে ঘিরে।
কিন্তু ভাগ্যের এমনি নিয়তি- নিজের দুঃখ কষ্ট ভুলে শরীরের মধ্যে গেঁথে রাখা ব্যথা আজ বড়ো পীড়া হয়ে দাড়াবে কে জানত; সু-চিকিৎসার জন্য তিনি বাংলাদেশের বড় বড়
ডাক্তারের পরার্মশ নিয়ে ছিলেন। উন্নত চিকিৎসার
জন্য ভারতের ভেলোরে গিয়েছিলেন। কিন্তু সান্তনার
চিকিৎসা শেষে চিরবিদায় নিতে হলো গুনী
ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব মানুষটিকে। আজ শোকাহত সলুয়া বাসী। শোকাহত সলুয়া বাজার ফুটবল
সংগঠন। ব্যক্তিজীবনে তিনি একজন শিক্ষানুরাগী ছিলেন। সামাজিকভাবে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধমীয় প্রতিষ্ঠান গুলোতে গুরুত্বপূর্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সলুয়া বাজারস্থ ঐতিহ্যবাহী শাপলা ক্রীড়াচক্র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর সময়ে সলুয়া বাজার ফুটবল ক্লাবটি চৌগাছা উপজেলায় ব্যপকভাবে জনপ্রিয়তা অর্জন করে। উল্লেখ্য তাঁর হাত ধরে ১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে আন্ত ইউনিয়ন পর্যায়ে চৌগাছা উপজেলার ফতেহপুর ফুটবল মাঠে গোল্ডকাপ শিরোপা অর্জন করেন। অসংখ্য কৃতিত্বে সাক্ষী গুনী ব্যক্তিকে অামরা শ্রদ্ধাভবে স্বরণ করি।
এক শোকবার্তায় সমসাময়িকী ব্যক্তিদ্বয় বলেছেন- জামির উদ্দিন আহমেদ তিনি একজন। যাহার অফুরন্ত ভালবাসা আন্তরিকতা অনুপ্রেরণায় আমাদেরকে স্বরণ করে রাখবে। তাঁর শুন্যতা কখনোও পূরণ হওয়ার নই। তিনি অমর হয়ে থাকবেন যুগযুগ ধরে আমাদের মনি কোঠায়। রবিবার সকাল ১১ টায় তাঁর নিজবাড়ি চৌগাছা উপজেলার ১নং ফুলসারা ইউনিয়নের সলুয়া (পশ্চিমপাড়া) গ্রামে জানাযা শেষে তাঁর মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।


