মুক্তিযুদ্ধাে চলাকালীন সিরাজ আমিনসহ সলুয়া গ্রামের একঝাক তরুন তৎকালীন সময় মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেন। নয় মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে দেশকে স্বাধীন করল যে সন্তানেরা আজ স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর একে একে সলুয়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধাদেরকে বিদায় জানাতে হচ্ছে। গত বছর ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে বিদায় জানাতে হলো মুক্তিযোদ্ধা নাজিমউদ্দিন কে। তাঁর মৃত্যুর শোক সইতে না সইতে আর এক বীরমুক্তিযোদ্ধাকে বিদায় জানাতে হচ্ছে।
মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ আমিনের মৃত্যুতে শুধু সলুয়া গ্রাম নয়, আশে-পাশে গ্রামেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মৃত্যুর খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে বন্ধু, সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা, সহকর্মী, আত্মীয়-সজন ও তাঁর ভক্তনুরাগী বৃন্দদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
এমন একজন পেশাদার জমি-জমা সংক্রান্ত ন্যায়-নীতিবান মানুষকে হারাল যাহার অভাববোধ সলুয়া গ্রামের মানুষ যুগযুগ ধরে করবে। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে যে মানুষটি জমি-জমা সংক্রান্ত নিস্পত্তির জন্য সদা প্রস্তুত থাকতেন তিনি আর আমাদের মাঝে নেই। সবকিছু যেন নিথর-নিস্তব্দ হয়ে গেছে। আজ থেকে আর এই গুনী মানুষটিকে কাছে পাবো না এ কথাটি যেন শুনতে বা ভাবতে কষ্ট হচ্ছে। ব্যক্তিজীবনে মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ আমিন সৎভাবে জীবন যাপন পছন্দ করতেন। ন্যায়-নীতিবান হিসেবে সকলের কাছে সুপরিচিত ছিলেন। ব্যক্তি হিসেবে তিনি দক্ষ শিক্ষানুরাগী ছিলেন। ফুটবল, ক্রিকেট খেলার ভক্ত ও দক্ষ বিশ্লেষক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সলুয়া বাজার নাট্যকলা শিল্পগোষ্ঠীর একজন সুদক্ষ নাট্যকার হিসেবে সুখ্যাতি অর্জন করেন। সমাজে ধমীয়, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কমিটি সদস্য, ও সলুয়া বাজার ঈদগাহ কমিটি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে করেছেন।
গুনী এ মানুষটির চিরবিদায়ে সলুয়া গ্রামবাসী আগামীকাল শুক্রবার জুম্মার নামাজের পূর্বে তাকে শ্রদ্ধাভরে স্বরণ করবে এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মরহুমের দাফন সম্পন্ন হবে। মরহুমের জানাযার নামাজ: আগামীকাল ০৩-০২-২০১৭ ইং তারিখ সকাল ১০:০০ টায় অনুষ্ঠিত হবে । স্থানীয় সলুয়া গ্রামের হাফেজীয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে।

